সময়টা ছিল শরৎকাল। আমার এক দাদার বিয়েতে গিয়েছিলাম। দাদার বিয়েতে প্রিয়াঙ্কা নামের একটি মেয়েকে প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খেয়েছিলাম। মেয়েটা দেখতে অনেক হাঁসি-খুশি। সেখানেই আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সেদিন প্রিয়াঙ্কার জন্যই বিয়েবাড়িতে দারুন মজা হয়েছিল। প্রথম আলাপেই ভালোলাগা শুরু। মানে love at first sight যাকে বলে আরকি! এরপর যোগাযোগ শুরু হয়ে যায় আমাদের। তার সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে সময় গড়িয়ে যেত, তা কিছুই বুঝতে পারতাম না। এত কথা হলেও আমি কখনোই তাকে জিজ্ঞাসা করিনি যে সে আমাকে ভালোবাসে কিনা?


আমি ভেবে নিয়েছিলাম যে, সে যখন আমার সাথে এত কথা শেয়ার করে, তারমানে সে নিশ্চয় আমাকে ভালোবাসে। একদিন সে আমাকে তার বাড়িতে একটি বিশেষ কাজের জন্য ডাকে। আমি ভেবেছিলাম, যে সে হয়ত তার বাবা-মা র সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেবে। আমি বেজায় খুশি হয়েই তার বাড়িতে যাই। কিন্তু তার বাড়িতে এত আয়োজন দেখে আমি ভেবেছিলাম যে, কোনো অনুষ্ঠান আছে হয়ত। ভেতরে গিয়েই আমি থমকে দাড়াই। আজ প্রিয়াঙ্কার আশীর্বাদ। আমি কাছে যেতেই সে তার হবু বরের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল। “ এ হল আমার এক বন্ধু রূপক।“

“বন্ধু!” আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখা, এত স্বপ্ন গড়া, সব স্বপ্নজাল মুহূর্তের মধ্যে ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে গেল। আমার নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে এল। প্রিয়াঙ্কা জিজ্ঞাস করল- “এই রূপক তোমার চোখে জল কেন?” উত্তরে আমি বলি- “আমার বন্ধুর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, আর হয়ত বন্ধুর সাথে কথা হবে না, সেই দুঃখে চোখে জল চলে এল।” প্রিয়াঙ্কা- “না রে কথা তো হবেই।”

হাঁ ঈশ্বর কি ভেবেছিলাম, আর কি দেখছি। আমি যাকে আমার ভবিষ্যৎ ভাবতাম, সে আমাকে বন্ধুর থেকে বেশি ভাবে না। ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে সেদিন বাড়ি ফিরেছলাম। মনে মনে বলে এসেছিলাম- সুখে থাকিস। আর বন্ধু যখন ভেবেছিস, তখন বন্ধু হয়েই থাকব। প্রিয়াঙ্কার বিয়ের পর এখনও সে আমাকে ফোন করে, কিন্তু সেই আগের কথা বলার যে ইচ্ছেটা ছিল সেটি আর নেই। হয়ত হারিয়ে গেছে কোনো মরুভূমির প্রান্তরে। অথবা তলিয়ে গেছে কোনো গভীর সমুদ্রে।